সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন
Logo
সর্বশেষ
● কুমিল্লায় ওয়ার্ল্ড মিডিয়া প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি নির্বাচিত হলেন সাংবাদিক শাহজাহান বাশার ● মাদক ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি পেলেন আইনজীবী হাবিবুল হক ● বাকেরগঞ্জে গণধর্ষণের অভিযোগ নিতে ওসির অস্বীকৃতি! উল্টো ভিকটিমকে ৭ বছরের জেলের ভয়! ● আইন, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি: বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হলেন কুমিল্লার কৃতি সন্তান অ্যাডভোকেট হাবিবুল হক ● সুফিবাদ ও তাসাউফ তরিকতের মূল শিক্ষাই হলো ইসলামের মূল আদর্শ ও দর্শন-সাংবাদিক মোঃ শাহজাহান বাশার ● এডিএম স্টার অ্যাওয়ার্ড ২০২৫-এ বিশেষ অ্যাওয়ার্ড ও সম্মাননা পেলেন অ্যাডভোকেট মো. হাবিবুল হক ● শারদীয় দূর্গা পূজার আন্তর্জাতিক বিশ্বতান এর নাটক “সিদ্ধিদাতা গণেশ” ● আইন অঙ্গনে অবদানের স্বীকৃতি, ‘স্মার্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন হাবিবুল হক ● বাকেরগঞ্জে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা ● নবী-ওলিদের মানবকল্যাণমুখী আদর্শে মানবিক সমাজ গঠনের আহ্বান-সৈয়দ সাইফুদ্দীন মাইজভাণ্ডারী

তনু হত্যা মামলায় নতুন মোড়: পিবিআই’র তদন্তে আরও এক পুরুষের ডিএনএ আলামত, রহস্য আরও ঘনীভূত

Reporter Name / ৮৩ Time View
Update : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬

৩৪

মোঃ শাহজাহন বাশার

কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডে নতুন করে আরও এক পুরুষের ডিএনএ আলামতের তথ্য পাওয়ার পর মামলাটি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত ব্যুরো (পিবিআই) বলছে, আগের তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর পাশাপাশি এবার একজন অজ্ঞাতনামা পুরুষের রক্তের আলামত শনাক্ত হয়েছে, যা তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

পিবিআই ঢাকা কার্যালয়ের তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষার সর্বশেষ প্রতিবেদনে নতুন এই তথ্য উঠে এসেছে। তাঁর ভাষায়, “আগে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর প্রোফাইল পাওয়া গিয়েছিল। এখন নতুন করে আরও একজন পুরুষের রক্তের আলামত শনাক্ত হয়েছে। ফলে মোট ডিএনএ প্রোফাইল বিশ্লেষণ আরও বিস্তৃত করতে হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, নতুন আলামতের কারণে সন্দেহভাজনদের পাশাপাশি অতিরিক্ত ব্যক্তিদের ডিএনএ মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন হতে পারে। তদন্ত বর্তমানে আরও গভীর পর্যায়ে প্রবেশ করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

আগের ডিএনএ প্রতিবেদনের চাঞ্চল্যকর তথ্য

এর আগে সিআইডির ডিএনএ ল্যাবরেটরির প্রতিবেদনে জানানো হয়, তনুর পোশাক ও অন্তর্বাস থেকে সংগৃহীত নমুনায় তিনজন ভিন্ন পুরুষের পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে। ওই নমুনাগুলোর মধ্যে কামিজ, সালোয়ার, ওড়না ও অন্তর্বাস ছিল উল্লেখযোগ্য।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভ্যাজাইনাল সোয়াবসহ একাধিক আলামতে বীর্যের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। তবে ওই তিনজনের ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে একটি আলাদা রক্তের প্রোফাইলের মিল পাওয়া যায়নি, যা তদন্তকে আরও জটিল করে তোলে।

সিআইডির প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ ছিল, মোট ২৪টি আলামত পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়, যার মধ্যে ছিল তনুর ব্যবহৃত পোশাক, ব্যক্তিগত সামগ্রী এবং সন্দেহভাজনদের ডিএনএ নমুনা।

তদন্তের অগ্রগতি ও সন্দেহভাজনরা

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ডিএনএ সংগ্রহ ও যাচাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ৬ এপ্রিল আদালতে আবেদন করে তিনজন সন্দেহভাজনের ডিএনএ ক্রস-ম্যাচের অনুমতি চাওয়া হয়। এর মধ্যে একজন—অবসরপ্রাপ্ত সেনা সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক শাহিনুল আলমের নাম উঠে আসে।

আদালতের নির্দেশে ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে হাফিজুর রহমানকে আটক করা হয় এবং পরে তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, “এখন পর্যন্ত যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। নতুন রক্তের ডিএনএ প্রোফাইল যুক্ত হওয়ায় তদন্তের পরিধি আরও বড় হয়েছে।”

দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত হত্যাকাণ্ড

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি শেষে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস সংলগ্ন একটি জঙ্গলে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর থানা পুলিশ, জেলা ডিবি, সিআইডি—সবাই দীর্ঘ সময় তদন্ত করলেও কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো যায়নি।

২০১৭ সালের মে মাসে প্রথম বড় অগ্রগতি হিসেবে সিআইডি জানায়, তনুর পোশাক থেকে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর ডিএনএ পাওয়া গেছে। তবে সেই তথ্যও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে যথেষ্ট হয়নি।

পিবিআইয়ের হাতে নতুন তদন্ত পর্ব

২০২০ সালের অক্টোবরে মামলাটি সিআইডি থেকে পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন ধাপে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পিবিআই ঢাকা সদর দপ্তর।

বর্তমানে পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, “এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল মামলা। আমরা প্রতিটি আলামত নতুন করে বিশ্লেষণ করছি। কোনো সম্ভাবনাই বাদ দেওয়া হচ্ছে না।”

তদন্তে নতুন চাপ ও প্রত্যাশা

মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নতুন ডিএনএ প্রোফাইল শনাক্ত হওয়ায় তদন্তে গতি এলেও একই সঙ্গে জটিলতাও বেড়েছে। একাধিক পুরুষের উপস্থিতির প্রমাণ তদন্তকে বহু দিক থেকে বিশ্লেষণের বাধ্যবাধকতায় ফেলেছে।

এদিকে জনমনে দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে হতাশা থাকলেও নতুন তথ্য প্রকাশের পর আবারও আশার সঞ্চার হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী ধাপে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ পুনরায় বিশ্লেষণ ও নতুন প্রোফাইলের সাথে মিলিয়ে দেখা হবে, যা মামলার রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নোট: এই মামলাটি দেশের সবচেয়ে আলোচিত ও দীর্ঘস্থায়ী হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত, যার চূড়ান্ত রহস্য আজও পুরোপুরি উদঘাটিত হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

উপদেষ্টা পর্ষদ

প্রধান উপদেষ্টা
হুমায়ুন কবির জীবন
উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক
আবুল হাসানাত
সম্পাদকীয় উপদেষ্টা
মোঃ শাহরিয়া সিকদার

সম্পাদকীয় পর্ষদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ শরিফ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক
মোঃ শাহজাহান বাশার
উপসম্পাদক
সালাম মিয়া

কার্যালয় ও যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়

২ নং, উত্তর দুর্গাপুর ইউনিয়ন কৃষ্ণনগর। কুমিল্লা আদর্শ সদর

যোগাযোগ

+
+

ডিজাইন ও প্রযুক্তি সহায়তায়ঃ