কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, পিবিআই ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলামকে কুমিল্লার আদালতে তলব করা হয়েছে।
রোববার ৫ এপ্রিল রাতে তনুর পরিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সোমবার কুমিল্লার আদালতে হাজির হয়ে মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার কথা রয়েছে তদন্ত কর্মকর্তার। রাত ১১টার দিকে মুঠোফোনে পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালত মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। তবে এখনই মামলার অভিযোগপত্র বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হচ্ছে না। আদালতে উপস্থিত হয়ে তদন্তের বিভিন্ন দিক নিয়ে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হবে। এ বিষয়ে এর বেশি মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। সবশেষ গত বছরের ৭ এপ্রিল বিকেলে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এই তদন্ত কর্মকর্তা। এ সময় পিবিআইয়ের তদন্ত টিম মামলার বাদী তনুর বাবা ইয়ার হোসেনের সঙ্গে তার কর্মস্থল কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিসে গিয়ে কথা বলে। বর্তমানে পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম এ মামলার ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মামলার বাদী ইয়ার হোসেন বলেন, মেয়ের হত্যাকাণ্ডের ১০ বছর পার হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে তিনি অসংখ্যবার সেনানিবাস এলাকা, কুমিল্লা পুলিশ অফিস ও ঢাকার বিভিন্ন দপ্তরে সাক্ষ্য দিয়েছেন। কিন্তু এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে সোমবার আদালতে থাকতে বলেছেন এবং তিনি সেখানে উপস্থিত থাকবেন। জীবিত অবস্থায় মেয়ের হত্যার বিচার দেখতে চান বলেও তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর শুরুতে থানা পুলিশ, পরে জেলা গোয়েন্দা শাখা, ডিবি এবং এরপর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ, সিআইডি দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করে। কিন্তু কোনো চূড়ান্ত রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলার নথি সিআইডি থেকে পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়। গত প্রায় চার বছর পিবিআই সদর দপ্তরের পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান মামলাটি তদন্ত করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলার ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
দীর্ঘ এক দশক পেরিয়ে গেলেও বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনো অধরাই রয়ে গেছে। আদালতের এই তলবের মাধ্যমে তদন্তে নতুন কোনো অগ্রগতি আসে কি না, সেদিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
২ নং, উত্তর দুর্গাপুর ইউনিয়ন কৃষ্ণনগর। কুমিল্লা আদর্শ সদর
+
+