সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন
Logo
সর্বশেষ
● কুমিল্লায় ওয়ার্ল্ড মিডিয়া প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি নির্বাচিত হলেন সাংবাদিক শাহজাহান বাশার ● মাদক ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি পেলেন আইনজীবী হাবিবুল হক ● বাকেরগঞ্জে গণধর্ষণের অভিযোগ নিতে ওসির অস্বীকৃতি! উল্টো ভিকটিমকে ৭ বছরের জেলের ভয়! ● আইন, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি: বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হলেন কুমিল্লার কৃতি সন্তান অ্যাডভোকেট হাবিবুল হক ● সুফিবাদ ও তাসাউফ তরিকতের মূল শিক্ষাই হলো ইসলামের মূল আদর্শ ও দর্শন-সাংবাদিক মোঃ শাহজাহান বাশার ● এডিএম স্টার অ্যাওয়ার্ড ২০২৫-এ বিশেষ অ্যাওয়ার্ড ও সম্মাননা পেলেন অ্যাডভোকেট মো. হাবিবুল হক ● শারদীয় দূর্গা পূজার আন্তর্জাতিক বিশ্বতান এর নাটক “সিদ্ধিদাতা গণেশ” ● আইন অঙ্গনে অবদানের স্বীকৃতি, ‘স্মার্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন হাবিবুল হক ● বাকেরগঞ্জে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা ● নবী-ওলিদের মানবকল্যাণমুখী আদর্শে মানবিক সমাজ গঠনের আহ্বান-সৈয়দ সাইফুদ্দীন মাইজভাণ্ডারী

রাফাল ধ্বংসের গুঞ্জনের পর বিশ্ববাজারে চীনা জঙ্গিবিমানের চাহিদা তুঙ্গে

Reporter Name / ৮৬ Time View
Update : শনিবার, ৯ মে, ২০২৬

৪৯

মোঃ শাহজাহান বাশার

বিশ্ব সামরিক প্রযুক্তির বাজারে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে চীনের তৈরি আধুনিক যুদ্ধবিমান। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার সময় পাকিস্তানের ব্যবহৃত চীনা জে-১০সি যুদ্ধবিমান ও পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকেই চীনা অস্ত্রের প্রতি আগ্রহ বাড়তে শুরু করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা ও রুশ যুদ্ধবিমানের তুলনায় চীনা যুদ্ধবিমানকে অনেক দেশ তুলনামূলক কম সক্ষমতার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করলেও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই ধারণায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়, পাকিস্তান তাদের বহরে থাকা চীনা প্রযুক্তির জে-১০সি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ভারতের উন্নত যুদ্ধবিমানকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে। বিশেষ করে ফরাসি প্রযুক্তির বহুল আলোচিত রাফাল যুদ্ধবিমানকে ঘিরে নানা গুঞ্জন আন্তর্জাতিক অস্ত্রবাজারে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এছাড়া পাকিস্তানের ব্যবহৃত পিএল-১৫ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিয়েও নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য পাল্লা ও আঘাত হানার সক্ষমতা অনেক দেশকে বিস্মিত করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো অস্ত্রের কার্যকারিতা প্রমাণিত হলে সেটি আন্তর্জাতিক বাজারে সবচেয়ে বড় প্রচারণা হিসেবে কাজ করে। আর সেই কারণেই সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর চীনা যুদ্ধবিমানের প্রতি বহু দেশের আগ্রহ দৃশ্যমানভাবে বেড়ে গেছে।

এশিয়া-প্যাসেফিকভিত্তিক সামরিক বিষয়ক সাময়িকী দ্য ডিপলোম্যাট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জে-১০ সিরিজের যুদ্ধবিমান প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান চেংদু এয়ারক্রাফট করপোরেশনের আয় ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্থাটির দাবি, তাদের বিক্রি বেড়ে প্রায় ৭৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছেছে।

এছাড়া ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রির পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

যদিও এই বিক্রি পুরোপুরি পাকিস্তানের সামরিক সাফল্যের কারণে হয়েছে কি না—তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, তবুও আন্তর্জাতিক বাজারে সময়ের এই মিলকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে ভারত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করলেও বিমান হারানোর কিছু তথ্য স্বীকার করেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের বিভিন্ন দাবিও বিতর্কের বাইরে নয়।

তবে সামরিক বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে অনেক সময় বাস্তবতার চেয়েও “ভাবমূর্তি” বড় ভূমিকা পালন করে। আর সেই জায়গাতেই চীন বর্তমানে বড় ধরনের সুবিধা পাচ্ছে।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপরি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সময়কালে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অস্ত্র আমদানিকারক দেশের তালিকায় পাকিস্তান পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে। এ সময় দেশটির সামরিক সরঞ্জাম আমদানি বেড়েছে প্রায় ৬৬ শতাংশ।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের মোট অস্ত্র আমদানির প্রায় ৮০ শতাংশই এসেছে চীন থেকে। ফলে পাকিস্তান এখন শুধু চীনের বড় ক্রেতাই নয়, বরং চীনা সামরিক প্রযুক্তির অন্যতম বড় প্রদর্শনী ক্ষেত্র হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়াও চীনের জে-১০ সিরিজের যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে। দেশটি ব্যয়, প্রযুক্তিগত সামঞ্জস্য এবং বিক্রয়োত্তর সেবার বিষয় বিবেচনা করে চীনা যুদ্ধবিমান মূল্যায়ন করছে।

পরবর্তীতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইন্দোনেশিয়া অন্তত ৪২টি জে-১০সি যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করছে, যার সম্ভাব্য বাজেট ৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আগ্রহ শুধু একটি বাণিজ্যিক চুক্তি নয়; বরং এটি বিশ্ব সামরিক ভারসাম্যে চীনের বাড়তে থাকা প্রভাবেরও স্পষ্ট বার্তা বহন করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

উপদেষ্টা পর্ষদ

প্রধান উপদেষ্টা
হুমায়ুন কবির জীবন
উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক
আবুল হাসানাত
সম্পাদকীয় উপদেষ্টা
মোঃ শাহরিয়া সিকদার

সম্পাদকীয় পর্ষদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ শরিফ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক
মোঃ শাহজাহান বাশার
উপসম্পাদক
সালাম মিয়া

কার্যালয় ও যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়

২ নং, উত্তর দুর্গাপুর ইউনিয়ন কৃষ্ণনগর। কুমিল্লা আদর্শ সদর

যোগাযোগ

+
+

ডিজাইন ও প্রযুক্তি সহায়তায়ঃ