মোঃ শাহজাহান বাশার
কুমিল্লা প্রেসক্লাবের তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগে সাধারণ সদস্য (সদস্য নং-২০) ও একুশে টিভির কুমিল্লা প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির রনির সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তৎকালীন সরকারের প্রভাব ব্যবহার করে প্রেসক্লাবের কমিটিকে চাপে রেখে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই অনিয়ম চালিয়ে আসছিলেন।
প্রেসক্লাবের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, রনির বিরুদ্ধে ৩৩ লাখ ১০ হাজার টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। বর্তমান কমিটি তাঁর কাছে আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরতের জন্য একাধিকবার লিখিত নোটিশ পাঠালেও তিনি কোনো জবাব দেননি এবং অর্থ ফেরত দিতেও অনাগ্রহ দেখিয়েছেন।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সদস্য দাবি করেছেন, প্রকৃত আত্মসাতের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। তাদের মতে, কমিউনিটি সেন্টারের বাইরে প্রেসক্লাবের মিলনায়তন, ক্লাব কার্যক্রম, মাঠ, পিসি রেস্তোরাঁ, দোকান ও হলরুমসহ বিভিন্ন খাত থেকে কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে বলে সন্দেহ রয়েছে, যা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি উঠেছে।
গত ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত বর্তমান নির্বাহী কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে রনির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
সাধারণ সদস্যদের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে অর্থ পুনরুদ্ধারের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে স্থায়ীভাবে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে প্রবেশে নিষিদ্ধ করার দাবিও জোরালো হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে, যখন প্রেসক্লাবের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয় এবং সেই কমিটিতে হুমায়ুন কবির রনি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। প্রায় পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনকালে তাঁকে প্রেসক্লাবের কমিউনিটি সেন্টারের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, ওই সেন্টারের আয় প্রেসক্লাবের ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি তা করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরবর্তীতে নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর কাছে হিসাব চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং অর্থ জমা না দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
২০২৩-২৪ সালের নির্বাচনে সভাপতি হিসেবে লুৎফুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাইয়ীদ মাহমুদ পারভেজ দায়িত্ব গ্রহণের পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দেখা যায়, কমিউনিটি সেন্টারের আয় থেকে ৩৩ লাখ ১০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই প্রতিবেদন পরবর্তীতে বার্ষিক সাধারণ সভায় অনুমোদন পায়।
এরপর একাধিকবার আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়েও কোনো সাড়া না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত নির্বাহী কমিটি তাঁর সদস্যপদ স্থগিত এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।
এ বিষয়ে হুমায়ুন কবির রনিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে বলে প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
২ নং, উত্তর দুর্গাপুর ইউনিয়ন কৃষ্ণনগর। কুমিল্লা আদর্শ সদর
+
+