সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩৩ অপরাহ্ন
Logo
সর্বশেষ
● নিউইয়র্কে ট্যাক্সি চালিয়ে দেশে ছয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়লেন মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী ● কুমিল্লায় ওয়ার্ল্ড মিডিয়া প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি নির্বাচিত হলেন সাংবাদিক শাহজাহান বাশার ● মাদক ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি পেলেন আইনজীবী হাবিবুল হক ● বাকেরগঞ্জে গণধর্ষণের অভিযোগ নিতে ওসির অস্বীকৃতি! উল্টো ভিকটিমকে ৭ বছরের জেলের ভয়! ● আইন, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি: বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হলেন কুমিল্লার কৃতি সন্তান অ্যাডভোকেট হাবিবুল হক ● সুফিবাদ ও তাসাউফ তরিকতের মূল শিক্ষাই হলো ইসলামের মূল আদর্শ ও দর্শন-সাংবাদিক মোঃ শাহজাহান বাশার ● এডিএম স্টার অ্যাওয়ার্ড ২০২৫-এ বিশেষ অ্যাওয়ার্ড ও সম্মাননা পেলেন অ্যাডভোকেট মো. হাবিবুল হক ● শারদীয় দূর্গা পূজার আন্তর্জাতিক বিশ্বতান এর নাটক “সিদ্ধিদাতা গণেশ” ● আইন অঙ্গনে অবদানের স্বীকৃতি, ‘স্মার্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন হাবিবুল হক ● বাকেরগঞ্জে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

২০১৫ সালে উদ্যোগ, এখন বহুতল ভবন ও মানুষের বসতি—পেছনে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর ভূমিকা

Reporter Name / ৪৬ Time View
Update : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

৭৫

মোঃ শাহজাহান বাশার

একসময় যেখানে ছিল অনাবাদি ও পরিত্যক্ত জমি, পানির অভাবে নিয়মিত কৃষিকাজও হতো না—সেই জায়গাতেই এখন দাঁড়িয়ে আছে একের পর এক বহুতল ভবন। তৈরি হয়েছে আবাসিক বসতি। প্রতিদিনই বাড়ছে মানুষের আনাগোনা। বদলে গেছে এলাকার চেহারা।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ধান্যদৌল গ্রামের এই পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ‘কলেজপাড়া আবাসিক এলাকা’ নামটি। ২০১৫ সালের দিকে আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী। তাঁর প্রতিষ্ঠিত মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী কলেজের পাশেই গড়ে ওঠা এলাকাটির নাম দেওয়া হয় ‘কলেজপাড়া আবাসিক এলাকা’।

শুরুটা ছিল নানা সীমাবদ্ধতায়। অনাবাদি জমি, পানির সংকট এবং অবকাঠামোগত নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে এগোতে হয় উদ্যোগটিকে। তবে ধীরে ধীরে জমি উন্নয়ন ও বসতি গড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে থাকে পুরো এলাকার চিত্র।

যে জমিতে ফসল হয়নি, সেখানে এখন বসতি

স্থানীয়দের ভাষ্য, কলেজপাড়া এলাকার অনেক জমি দীর্ঘদিন ব্যবহারের বাইরে ছিল। পানির অভাবে কৃষিকাজও প্রত্যাশিতভাবে করা যেত না। এমন পরিস্থিতিতে এসব জমিকে আবাসিক ব্যবহারের উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রাথমিক পর্যায়ে নানা বাধা থাকলেও উদ্যোগটি থেমে যায়নি। এ কাজে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীকে সহযোগিতা করেন ব্রাহ্মণপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাংবাদিক সৈয়দ আহাম্মদ লাভলু এবং মিজানুর রহমান। পর্যায়ক্রমে স্থানীয় আরও কয়েকজন ব্যক্তি এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হন।

এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে বসতি। নির্মিত হয় ছোট-বড় বিভিন্ন ভবন। বর্তমানে কলেজপাড়া এলাকায় পাঁচ উপজেলার মানুষ বসবাস করছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

বহুতল ভবনে বদলে যাচ্ছে এলাকার দৃশ্যপট

বর্তমানে কলেজপাড়া আবাসিক এলাকায় ঢুকলেই চোখে পড়ে নতুন নতুন ভবন। কোথাও নির্মাণকাজ চলছে, কোথাও এরই মধ্যে গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন। পুরোনো অনাবাদি জমির জায়গায় আবাসিক স্থাপনা গড়ে ওঠায় বদলে গেছে এলাকার দৃশ্যপট।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, পরিকল্পিতভাবে বসতি গড়ে ওঠার ফলে এলাকাটির প্রতি মানুষের আগ্রহও বেড়েছে। নতুন বাসিন্দারা আসার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও।

তবে একটি আবাসিক এলাকা টেকসইভাবে গড়ে তুলতে শুধু ভবন নির্মাণই যথেষ্ট নয়—সড়ক, পানি নিষ্কাশন, সুপেয় পানি, বিদ্যুৎ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার মতো নাগরিক সুবিধার ধারাবাহিক উন্নয়নও প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

মসজিদের জন্য জায়গা দিলেন মোশাররফ হোসেন

কলেজপাড়া আবাসিক এলাকায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতেও ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করেছেন মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য তিনি নিজস্ব জায়গা দিয়েছেন এবং নির্মাণকাজে আর্থিক সহযোগিতাও করেছেন।

স্থানীয়দের দাবি, মসজিদের জন্য দেওয়া জায়গাটির বর্তমান বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্য। তবে জায়গাটির সুনির্দিষ্ট মূল্য ও আয়তন সংশ্লিষ্ট দলিলপত্রের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

যাঁরা পাশে ছিলেন

কলেজপাড়া আবাসিক এলাকা গড়ে ওঠার বিভিন্ন পর্যায়ে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীকে সহযোগিতা করেছেন স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রয়াত ব্যাংকার জাহাঙ্গীর আলম সবুজ, অ্যাডভোকেট শাহজাহান, অধ্যক্ষ মোঃ আলতাফ হোসেন, প্রভাষক মোমেন, প্রভাষক নেছার আহাম্মেদ, মরহুম মাজেদ খান ও জসিম উদ্দিনসহ অনেকে।

স্থানীয়ভাবে তাঁদের সহযোগিতা ও পরামর্শও উদ্যোগটি বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

উদ্যোগের পরবর্তী লক্ষ্য কী?

একটি পরিত্যক্ত এলাকার জায়গায় আবাসিক জনপদ গড়ে ওঠার পর এখন সামনে এসেছে নতুন প্রশ্ন—এই এলাকার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে কলেজপাড়া আরও পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য আবাসিক এলাকায় পরিণত হবে। বিশেষ করে সড়ক যোগাযোগ, পানি নিষ্কাশন, পরিবেশ রক্ষা, নিরাপত্তা ও নাগরিক সুবিধার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীও ভবিষ্যতে মানুষের কল্যাণে আরও কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

এক দশকের ব্যবধানে কলেজপাড়া আবাসিক এলাকার পরিবর্তন এখন স্থানীয়দের কাছে দৃশ্যমান। যে জায়গায় একসময় মানুষের বসতি ছিল না, সেখানে এখন গড়ে উঠেছে একটি নতুন জনপদ। সেই পরিবর্তনের গল্পে যেমন রয়েছে একজন উদ্যোক্তার উদ্যোগ, তেমনি রয়েছে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ ও দীর্ঘ সময়ের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা।

‘কলেজপাড়া’ তাই শুধু একটি আবাসিক এলাকার নাম নয়—ব্রাহ্মণপাড়ার একটি এলাকার বদলে যাওয়ার গল্পও।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

উপদেষ্টা পর্ষদ

প্রধান উপদেষ্টা
হুমায়ুন কবির জীবন
উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক
আবুল হাসানাত
সম্পাদকীয় উপদেষ্টা
মোঃ শাহরিয়া সিকদার

সম্পাদকীয় পর্ষদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ শরিফ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক
মোঃ শাহজাহান বাশার
উপসম্পাদক
সালাম মিয়া

কার্যালয় ও যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়

২ নং, উত্তর দুর্গাপুর ইউনিয়ন কৃষ্ণনগর। কুমিল্লা আদর্শ সদর

যোগাযোগ

+
+

ডিজাইন ও প্রযুক্তি সহায়তায়ঃ