জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশকে একটি ‘সবুজ বসতি’ হিসেবে গড়ে তুলতে বনায়নকে নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন। এই জাতীয় লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মহোদয়ের দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশজুড়ে সবুজায়ন কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
তারই ধারাবাহিকতায় ২৫ আগস্ট ২০২৬ (মঙ্গলবার) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, নীলফামারী জেলার পিভিএম জেলা কমান্ড্যান্ট জনাব মোঃ মিজানুর রহমান-এর উদ্যোগে এক ব্যতিক্রমী কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়। জেলার ৬টি উপজেলায় একযোগে চলমান ভিডিপি ও টিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণের (১ম ধাপ) ৯ম দিনে ৩৭৫ জন প্রশিক্ষণার্থীর মাঝে ৩৭৫টি ফলজ, বনজ ও ভেষজ বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়। এই উদ্যোগকে তৃণমূল পর্যায়ে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
বৃক্ষের সবুজ চারা হাতে পেয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রশিক্ষণ শেষে তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে চারাগুলো যথাযথভাবে রোপণ করেন। কেবল গাছ লাগিয়েই ক্ষান্ত নন এই তরুণ-তরুণীরা; চারাগুলোর পরিচর্যার পাশাপাশি তারা পরিবার ও প্রতিবেশীদেরও পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করছেন।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রায় ৬০ লাখ সদস্য সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের জাতীয় লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিস্তৃত আনসার-ভিডিপির এই বিশাল নেটওয়ার্ক বর্তমানের এই বিশেষ বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে খুব দ্রুত একটি দেশব্যাপী সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে পারে।
সামাজিক দায়বদ্ধতা, পরিবেশ সচেতনতা এবং জনকল্যাণমূলক চেতনায় ‘বৃক্ষ রোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ মন্ত্রে উজ্জীবিত বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। গণমানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও এই বাহিনীর মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা ভবিষ্যতে দেশের বনায়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২ নং, উত্তর দুর্গাপুর ইউনিয়ন কৃষ্ণনগর। কুমিল্লা আদর্শ সদর
+
+