সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ন
Logo
সর্বশেষ
● নিউইয়র্কে ট্যাক্সি চালিয়ে দেশে ছয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়লেন মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী ● কুমিল্লায় ওয়ার্ল্ড মিডিয়া প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি নির্বাচিত হলেন সাংবাদিক শাহজাহান বাশার ● মাদক ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি পেলেন আইনজীবী হাবিবুল হক ● বাকেরগঞ্জে গণধর্ষণের অভিযোগ নিতে ওসির অস্বীকৃতি! উল্টো ভিকটিমকে ৭ বছরের জেলের ভয়! ● আইন, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি: বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হলেন কুমিল্লার কৃতি সন্তান অ্যাডভোকেট হাবিবুল হক ● সুফিবাদ ও তাসাউফ তরিকতের মূল শিক্ষাই হলো ইসলামের মূল আদর্শ ও দর্শন-সাংবাদিক মোঃ শাহজাহান বাশার ● এডিএম স্টার অ্যাওয়ার্ড ২০২৫-এ বিশেষ অ্যাওয়ার্ড ও সম্মাননা পেলেন অ্যাডভোকেট মো. হাবিবুল হক ● শারদীয় দূর্গা পূজার আন্তর্জাতিক বিশ্বতান এর নাটক “সিদ্ধিদাতা গণেশ” ● আইন অঙ্গনে অবদানের স্বীকৃতি, ‘স্মার্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন হাবিবুল হক ● বাকেরগঞ্জে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

এই ভাঙা ছবি একদিন জাদুঘরে স্থান পেতে পারে-সাজ্জাদ চেয়ারম্যান

Reporter Name / ১৭২ Time View
Update : রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬

৩৯

মোঃ শাহজাহান বাশার

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশিমুল ইউনিয়ন কালিকাপুর বাজারে অবস্থিত কালিকাপুর আব্দুল মতিন খসরু সরকারি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে স্থাপিত প্রতিষ্ঠাতার ছবি ভাঙচুরের ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনা রাজনৈতিক, সামাজিক ও নৈতিক দিক থেকে গুরুত্ব বহন করছে।

স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ চেয়ারম্যান বলেন, “সময়ই সবকিছুর বিচার করবে। হয়তো কোনো একদিন এই ভাঙা ছবিই ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে জাদুঘরে স্থান পাবে।”

সাজ্জাদ চেয়ারম্যান আরও জানান, কলেজটি তিনি প্রায় তিন একর ৬৪ শতক জমি নিজ নামে এবং প্রয়াত সাবেক আইনমন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন খসরুর নামে ক্রয় করে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, এটি ব্যক্তিগত বা পারিবারিক স্বার্থে নয়, বরং বাকশিমুল ইউনিয়ন, কালিকাপুর এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার শিক্ষার উন্নয়ন এবং একজন আদর্শিক নেতার স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হয়েছে।

সরকার পরিবর্তনের পর কলেজের প্রধান ফটকের সামনে স্থাপিত প্রয়াত মন্ত্রী ও প্রতিষ্ঠাতার ছবি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। সাজ্জাদ চেয়ারম্যান জানান, তিনি দীর্ঘদিন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে বুড়িচং এলাকায় সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন। তিনি দাবি করেন, সরকারি বরাদ্দ ও ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে কখনো নিজের বা পরিবারের নামে কোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেননি; বরং দলীয় সিনিয়র নেতা আব্দুল মতিন খসরুর নামে কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন।

তিনি বলেন, “আমি ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতি করি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে কথা বলি এবং একটি নির্দিষ্ট আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত। হয়তো এটাই আমার অপরাধ। তবে যারা ছবি ভাঙচুর করেছে, তাদের ভবিষ্যতে বড় নেতা হওয়ার শুভকামনা রইল, শুধু প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়।”

ছবি সংস্কার না করার বিষয়ে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, “সময়ই সবকিছুর বিচার করবে। হয়তো একদিন এই ভাঙা ছবিই ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে জাদুঘরে স্থান পাবে।”

স্থানীয় মানুষ ও কলেজের শিক্ষার্থী সমাজের মানুষ সাজ্জাদ হোসেনকে কেবল একজন নেতা নয়, বরং বুড়িচং উপজেলার একজন কৃতি সন্তান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তারা বলেছেন:

সাজ্জাদ হোসেন শুধু একটি নাম নয়, উনি আমাদের এলাকার গর্ব। রাজনীতিটাকে পেশা হিসেবে নিলেও তিনি তা আমাদের এলাকার কাজে ব্যবহার করেছেন।কালিকাপুর আব্দুল মতিন খসরু কলেজ উনার অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত এবং পরে জাতীয়করণ হয়েছে। নিজের বা বাবার নামে করেননি; বরং রাজনৈতিক গুরু প্রয়াত নেতা আব্দুল মতিন খসরুর নামে নামকরণ করেছেন।সাজ্জাদ হোসেনের এই অসামান্য অবদানের কারণে আজ বাকশিমূল আলোকিত। হাজার হাজার ছেলে-মেয়ে উক্ত কলেজ থেকে জ্ঞান আহরণ করে দেশের সেবায় নিয়োজিত হচ্ছে।গত ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট যারা কলেজের সাজ্জাদ হোসেনের ভাস্কর্য ভাঙচুর করেছে তারা মূর্খ। ভাস্কর্য ভাঙলেও মানুষের মনে সাজ্জাদ হোসেনের নাম কখনোই মুছে যাবে না।”

স্থানীয়দের মতে, সাজ্জাদ হোসেন শুধু কালিকাপুর আব্দুল মতিন খসরু কলেজের নয়, অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং একজন দানশীল ব্যক্তি। তারা মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করছেন যেন সাজ্জাদ ভাইয়ের মন-মানসিকতা আরও বড় হয় এবং তিনি দীর্ঘজীবী হন।

এই ঘটনার মাধ্যমে সমাজে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে – কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা প্রয়াত ব্যক্তির স্মৃতিচিহ্নে আঘাত করা কি গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হতে পারে? রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কি ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক সম্মান ক্ষুণ্ণ হওয়া উচিত? গণতান্ত্রিক সমাজে মতপার্থক্য স্বাভাবিক। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক উদ্যোগ বা প্রয়াত ব্যক্তির স্মৃতির প্রতি অসম্মান সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচায়ক নয়।

একটি কলেজ কেবল একটি ভবন নয়; এটি এলাকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার কেন্দ্র। তাই এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে থাকে, এটাই প্রত্যাশা। রাজনীতি আসবে-যাবে, সরকার বদলাবে; কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সম্প্রীতি টিকে থাকাই সবার কাম্য। মতভেদ থাকুক যুক্তিতে, প্রতিযোগিতা হোক উন্নয়নে, কিন্তু সম্মান ও সহাবস্থান হোক অটুট; প্রতিহিংসা রাজনীতি সমাজে স্থান পাবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

উপদেষ্টা পর্ষদ

প্রধান উপদেষ্টা
হুমায়ুন কবির জীবন
উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক
আবুল হাসানাত
সম্পাদকীয় উপদেষ্টা
মোঃ শাহরিয়া সিকদার

সম্পাদকীয় পর্ষদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ শরিফ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক
মোঃ শাহজাহান বাশার
উপসম্পাদক
সালাম মিয়া

কার্যালয় ও যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়

২ নং, উত্তর দুর্গাপুর ইউনিয়ন কৃষ্ণনগর। কুমিল্লা আদর্শ সদর

যোগাযোগ

+
+

ডিজাইন ও প্রযুক্তি সহায়তায়ঃ