বিভিন্ন গণমাধ্যমে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ, অভিযোগের তদন্ত এবং গুদামে আকস্মিক অডিটের পর নীলফামারীর ডিমলা সরকারি খাদ্য গুদামের দুই কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ (জরুরি বদলি) করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—ডিমলা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুনার রশিদ এবং ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) নবাব।
গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (সংস্থাপন) অনির্বাণ চন্দ্র স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাঁদের বদলির আদেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মামুনার রশিদকে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে এবং নবাবকে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার পাতাবুনিয়ায় স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।
এর আগে গত আগস্টে ডিমলা সরকারি খাদ্য গুদামে নতুন বস্তা বিক্রি, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল সরবরাহে অনিয়ম ও অবৈধ অর্থ লেনদেনসহ বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে ‘দৈনিক ঘোষণা’, ‘দৈনিক জনতা’, ‘Mirror News’—সহ একাধিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনের পর নীলফামারী জেলা খাদ্য বিভাগ তিন সদস্যের এবং খাদ্য অধিদপ্তর এক সদস্যের পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে।
এরও আগে গত ১৯ মে ‘দুই কর্মকর্তার ঘুষ বাণিজ্যে ক্ষতি দেড় কোটির অধিক’ এবং ২২ মে ‘টিসিবির ডিলারদের দিয়ে পচা-দুর্গন্ধযুক্ত চাল বিক্রি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে জেলা খাদ্য বিভাগ দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল।
তবে ওই তদন্তের কার্যক্রম ও প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। জেলা খাদ্য বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা না বলে শুধু ডিলারদের কাছ থেকে ‘আর্থিক লেনদেন হয়নি’ মর্মে লিখিত বক্তব্য নেওয়ার মধ্যেই তদন্ত সীমাবদ্ধ রাখে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে তদন্তের নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়।
পরবর্তীতে গত ২৭ আগস্ট খাদ্য অধিদপ্তরের এক সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান ও রংপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সালেহ আজিজ ডিমলা খাদ্য গুদামে তদন্তে আসেন। তিনি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার ও সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় গুদামের কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ, তথ্য-উপাত্ত ও নথিপত্র তদন্ত কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় গত ২ সেপ্টেম্বর খাদ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মনিরুজ্জামান ডিমলা খাদ্য গুদামে আকস্মিক অডিটে আসেন। দিনব্যাপী অডিটে গুদামের বস্তা, চাল ও ধানের হিসাবসহ বিভিন্ন বিষয়ে গরমিল ও অনিয়ম ধরা পড়ে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পরে অডিটের তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে খাদ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের উপপরিচালক (মামলা ও তদন্ত শাখা) ফজলে রাব্বি হায়দারের নেতৃত্বে অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা ডিমলা খাদ্য গুদামে উপস্থিত হয়ে পুনরায় তদন্ত করেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তাঁরাও গুদামের হিসাব ও কার্যক্রমে ব্যাপক অসংগতি দেখতে পান।
এর পরিপ্রেক্ষিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং পরদিনই অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ প্রকাশ, একাধিক তদন্ত এবং আকস্মিক অডিটের পর দুই কর্মকর্তার বদলির ঘটনাটি ডিমলা খাদ্য গুদামের অনিয়মের গুরুত্বই তুলে ধরে। তবে অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা ও দায় নির্ধারণে তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশ করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে জানতে ডিমলা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুনার রশিদ ও ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা নবাবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
২ নং, উত্তর দুর্গাপুর ইউনিয়ন কৃষ্ণনগর। কুমিল্লা আদর্শ সদর
+
+