ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দীর্ঘ যানজটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা। ভয়াবহ যানজটের কারণে কুমিল্লা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েও সিঙ্গাপুরগামী দুই যাত্রী নির্ধারিত ফ্লাইট ধরতে পারেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, সিঙ্গাপুরগামী ওই দুই যাত্রী কুমিল্লার আলেখারচর বিশ্বরোড এলাকা থেকে রাত ১২টার দিকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ফ্লাইট ধরার জন্য তারা হাতে প্রায় ৮ ঘণ্টা সময় রেখে যাত্রা শুরু করলেও মহাসড়কের তীব্র যানজটে তাদের যাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়। রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টা ২০ মিনিট পর্যন্ত দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তারা গৌরীপুর এলাকা অতিক্রম করতে পারেননি বলে জানা গেছে।
ফলে নির্ধারিত সময়ে ঢাকায় পৌঁছাতে না পারায় শেষ পর্যন্ত তাদের সিঙ্গাপুরগামী ফ্লাইট মিস হয়। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি তাদের বিদেশযাত্রা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিরা কঠোর পরিশ্রম করে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। অথচ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের কারণে যদি একজন প্রবাসী কর্মীর ফ্লাইট মিস হয় এবং তাকে অতিরিক্ত অর্থ ও সময়ের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—একজন প্রবাসী যাত্রী যদি যথেষ্ট সময় হাতে নিয়ে কুমিল্লা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েও মহাসড়কের যানজটের কারণে বিমানবন্দরে সময়মতো পৌঁছাতে না পারেন, তাহলে এর দায়ভার নেবে কে?
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই মহাসড়কে নিয়মিত যানজট, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধীরগতির যান চলাচল, অব্যবস্থাপনা কিংবা সড়কসংক্রান্ত কোনো সমস্যা থাকলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ যাত্রী, ব্যবসায়ী ও বিশেষ করে প্রবাসীদের ওপর।
ভুক্তভোগীদের দাবি, মহাসড়কের যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা কোনো প্রবাসীকে মহাসড়কের যানজটের কারণে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে ফ্লাইট হারানোর মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ ও জবাবদিহিতা এখন সময়ের দাবি।
২ নং, উত্তর দুর্গাপুর ইউনিয়ন কৃষ্ণনগর। কুমিল্লা আদর্শ সদর
+
+