জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসে এফডিসিতে গিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরেছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়ক ওমর সানী। শুক্রবার সকালে সেখানে উপস্থিত হয়ে তিনি পরিবেশ, বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য এবং সিনিয়র শিল্পীদের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ওমর সানী জানান, দীর্ঘ বিরতির পর চলচ্চিত্র দিবসে অংশ নিতে তিনি এফডিসিতে যান। সেখানে নিজের অভিনীত কালজয়ী সিনেমা চাঁদের আলো-এর ব্যানার দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তবে সেই আবেগ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, এফডিসির এমডির কক্ষে আলাপকালে হঠাৎ প্রযোজক ও নায়ক হেলাল খান-এর নেতৃত্বে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন সেখানে প্রবেশ করেন। একটি কেপিআইভুক্ত এলাকায় এমন গণজমায়েতকে তিনি ‘বিদঘুটে’ ও ‘বিব্রতকর’ বলে উল্লেখ করেন। পরিস্থিতিতে অপমানিত বোধ করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন তিনি।
বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রসঙ্গ টেনে ওমর সানী বলেন, তারেক রহমান এখন শোডাউন ছাড়া সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা করছেন, যা ইতিবাচক উদাহরণ। তার প্রশ্ন, চলচ্চিত্র অঙ্গনে কেন এখনো দলীয় আবহে শোডাউন থাকবে। এটি দৃষ্টিকটু বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এফডিসির সামনের সারিতে প্রকৃত শিল্পীদের পরিবর্তে বহিরাগতদের ভিড় নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন এই অভিনেতা। তিনি বলেন, শিবা সানুর অনুরোধের পরও বহিরাগতরা সামনের কাতার দখল করে রাখে। তারা ছবি তোলা ও নিজেদের জাহির করতেই ব্যস্ত ছিল। সিনিয়র শিল্পীদের অনুপস্থিতি তাকে আরও হতাশ করে। বিশেষ করে তিনি উজ্জ্বলসহ অনেক প্রবীণকে না পেয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন।
ভিডিও বার্তার শেষে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি অনুরোধ করেন, চলচ্চিত্রের মানুষকে তাদের মতো কাজ করতে দেওয়া হোক। বাইরে থেকে এসে অযাচিত হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, চলচ্চিত্র দিবসের আয়োজনে উপস্থিতি ছিল সীমিত। হাতে গোনা কয়েকজন পরিচালক ও শিল্পী ছাড়া তেমন পরিচিত মুখ দেখা যায়নি। শিল্পীদের মধ্যে রোজিনা, পলি, সনি ও জয় চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সাদামাটা এই আয়োজন কার্যত তারকাশূন্য ছিল।
ওমর সানীর এ মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অনেকেই এফডিসিতে সুস্থ ও পেশাদার পরিবেশ ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন।