নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লার বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া নির্বাচনী এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষা বিস্তারে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষানুরাগীদের উদ্যোগে এখানে একের পর এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিশেষ করে সাবেক আইনমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য আব্দুল মতিন খসরুর সময়ে এ এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, তাঁর আমলে ১৭টি কলেজ প্রতিষ্ঠা শিক্ষা বিস্তারে বড় ভূমিকা রাখে।

এর আগে ১৯৭২ সালে শিক্ষানুরাগী জুনাব আলী সাহেব নিমসার জুনাব আলী কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময়ের এমপি অধ্যাপক মো. খোরশেদ আলম কলেজ প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করেন। একইভাবে সাহেবাবাদ ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজুল হকসহ স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তৎকালীন এমপি অ্যাডভোকেট আমির হোসেনও সহযোগিতা করেন।

১৯৭৩ সালে অ্যাডভোকেট আমির হোসেন শীদলাই আমির হোসেন জোবেদা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের নেতৃত্বে বুড়িচং এরশাদ ডিগ্রি কলেজসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।

স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, ভিন্ন সময়ে ভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্বের উদ্যোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এলাকায় একটি ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিশেষ করে নারীশিক্ষায় অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

সম্প্রতি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে শিক্ষা বিস্তারের এ ধারাবাহিকতা তুলে ধরে বুড়িচং উপজেলা সদরে একটি পৃথক মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। তিনি মত দেন, নারীশিক্ষা সম্প্রসারণ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে উপজেলা সদরে একটি পূর্ণাঙ্গ মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা সময়োপযোগী উদ্যোগ হতে পারে।

এ বিষয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের অনেকে বলেন, উপজেলা সদরে মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে কন্যাশিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং দূরবর্তী প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর বিষয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ কমবে।

স্বাধীনতার পর থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ায় শিক্ষা বিস্তারে ধারাবাহিক উদ্যোগ এ অঞ্চলের সামাজিক অগ্রগতির একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন নারীশিক্ষা আরও সম্প্রসারণে উপজেলা সদরে একটি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার দাবি উঠেছে।