নিজস্ব প্রতিবেদক:
নাটোরের গুরুদাসপুরে রোজী মোজাম্মেল মহিলা অনার্স কলেজের দুই শিক্ষকের নামে ডাকযোগে কাফনের কাপড়সহ হুমকিমূলক চিঠি পাঠানোর ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাসে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রহস্যজনক এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজ ছুটির সময় প্রধান করণিক রাফিজা খাতুন ডাকযোগে আসা দুটি রেজিস্ট্রি চিঠি গ্রহণ করেন। রোববার সকালে কলেজ খোলার পর চিঠি দুটি খোলা হলে প্রত্যেকটিতে তিনটি করে মোট ছয় টুকরো সাদা কাফনের কাপড় পাওয়া যায়। বিষয়টি জানাজানি হতেই শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে ভীতি ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে, চিঠি দুটি পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলা থেকে পাঠানো হয়েছে। চিঠিগুলো কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন এবং ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আবদুস সামাদের নামে প্রেরিত। খামের ওপর কোনো প্রেরকের ফোন নম্বর উল্লেখ ছিল না, তবে জনি শেখসহ আরও এক ব্যক্তির নাম লেখা রয়েছে।
ডাকঘর সূত্রে জানা যায়, চিঠি দুটি রেজিস্ট্রির মাধ্যমে গুরুদাসপুর ডাকঘরে পৌঁছায় এবং অফিসিয়াল রিসিভের মাধ্যমে একজন পিয়ন সেগুলো কলেজে সরবরাহ করেন।
ঘটনার বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মাহাতাব উদ্দিন বলেন, “এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি ঘটনা। আমরা বিষয়টি গুরুদাসপুর থানাকে অবহিত করেছি। পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।”
কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক ওমর আলী জানান, বিষয়টি জানার পরপরই ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল আলম বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এর পেছনে কারা জড়িত তা শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।