ছোটবেলা থেকেই মানুষের দুঃখ-কষ্ট তাকে ভাবিয়ে তুলত। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, মানুষের জন্য কিছু করা এবং নিজের যোগ্যতায় নিজের পায়ে দাঁড়ানোর একটি প্রত্যয় তার মনে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। পরিবার বা অন্য কারও ওপর নির্ভরশীল না হয়ে কর্মের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার ইচ্ছাই তাকে জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে সামনে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

মোঃ সালাম মিয়া উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার পর ডিগ্রি শিক্ষাক্রমে ভর্তি হন এবং দ্বিতীয় বর্ষ পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে নানা বাস্তবতার কারণে তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন আর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে শিক্ষাজীবনের ইতি ঘটলেও মানুষের জন্য কাজ করার আগ্রহ থেমে থাকেনি।

সমাজসেবার মধ্য দিয়ে পথচলা

মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় থেকে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হন। লাল সবুজ ইউথ সোশ্যাল অর্গানাইজেশন এবং রক্তদানভিত্তিক একটি সামাজিক প্ল্যাটফর্মে দায়িত্ব পালন করার মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পান।

সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার অন্যতম লক্ষ্য ছিল—অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানো। রক্তদানের মতো মানবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি অসুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াকে তিনি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে দেখেছেন।

করোনাকালে মানবিক ভূমিকা

করোনাভাইরাস মহামারির কঠিন সময়েও মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেন মোঃ সালাম মিয়া। সংকটের সময় অনেক মানুষ যখন অসুস্থ স্বজনের জন্য জরুরি সহায়তা খুঁজছিলেন, তখন তিনি নিজ উদ্যোগে অসুস্থ ও অসহায় মানুষের কাছে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়ার কাজে যুক্ত হন।

কখনো নিজের কাঁধে অক্সিজেন সিলিন্ডার বহন করে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। অসুস্থ শিশুদের জন্য নিজের অর্থায়নে অক্সিজেন নেবুলাইজার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে সহযোগিতা করারও চেষ্টা করেছেন। তার কাছে এসব কর্মকাণ্ড ছিল প্রচারের বিষয় নয়; বরং বিপদের সময় একজন মানুষ হিসেবে আরেকজন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব।

সাংবাদিকতার স্বপ্ন

মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই তার আরেকটি স্বপ্ন ছিল—সাংবাদিকতা নিয়ে কাজ করা।

সমাজের নানা অসঙ্গতি, মাদক, অপরাধ, সন্ত্রাস, দুর্ঘটনা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কথা মানুষের সামনে তুলে ধরার আকাঙ্ক্ষা থেকেই সাংবাদিকতার প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। পরবর্তীতে সত্য ও বাস্তবতার সন্ধানে কলম ধরার মাধ্যমে তার সাংবাদিকতার পথচলা শুরু হয়।

তার বিশ্বাস, সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো সত্য, নিরপেক্ষতা ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা। একজন সাংবাদিকের কাজ শুধু সংবাদ প্রকাশ করা নয়; বরং সমাজের সমস্যা, মানুষের অধিকার এবং অবহেলিত মানুষের কণ্ঠস্বরকে যথাযথভাবে তুলে ধরাও গুরুত্বপূর্ণ।

সত্যের সন্ধানে কলম

মোঃ সালাম মিয়ার সাংবাদিকতার দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে সত্য অনুসন্ধানের চেষ্টা। কোনো অন্যায়, অনিয়ম কিংবা অসঙ্গতি সামনে এলে তা যাচাই করে মানুষের কাছে তুলে ধরার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করতে চান তিনি।

তার কাছে সাংবাদিকতা কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের মাধ্যম নয়; বরং সমাজ ও মানুষের প্রতি একটি দায়িত্ব। তাই মিথ্যা, অন্যায় কিংবা অনৈতিকতার সঙ্গে আপস না করে নিজের আদর্শ অনুযায়ী কাজ করে যাওয়াকেই তিনি তার পথ হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

আগামী দিনের স্বপ্ন

মোঃ সালাম মিয়ার স্বপ্ন শুধু নিজের প্রতিষ্ঠা নয়। তার স্বপ্ন—একজন কর্মঠ ও মানবিক মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে কাজ করা।

বিশেষ করে মাদক, অপরাধ, সন্ত্রাস, দুর্ঘটনা, সামাজিক অনিয়ম এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়ে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে চান তিনি। একই সঙ্গে অসহায় মানুষের কথা সমাজের সামনে তুলে ধরে তাদের জন্য সহযোগিতার পথ তৈরি করাও তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ।

জীবনের পথ সবসময় সহজ ছিল না। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন থেমে গেলেও শেখার ও কাজ করার ইচ্ছা থেমে যায়নি। মানুষের পাশে থাকার অভিজ্ঞতা এবং সত্য অনুসন্ধানের প্রত্যয়কে সঙ্গে নিয়ে তিনি এগিয়ে যেতে চান।

তার স্বপ্ন—নিজের পায়ে দাঁড়ানো, মানুষের জন্য কাজ করা এবং সত্যের পক্ষে কলম ধরে এমন একটি অবস্থান তৈরি করা, যেখানে তার কাজ মানুষের উপকারে আসে।

মোঃ সালাম মিয়ার পথচলার মূলমন্ত্র যেন একটাই—

“মানুষের বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানো, সত্যকে সত্য হিসেবে তুলে ধরা এবং অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা।”