রক্তের প্রয়োজন হলে অনেকেই আপনজনের জন্য ছুটে যান। কিন্তু একজন অপরিচিত মানুষের জীবন বাঁচাতে নিজের শরীরের রক্ত দিয়ে পাশে দাঁড়ানো মানুষের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। সেই মানবিক কাজটিই দীর্ঘ ১৭ ধরে করে আসছেন মোঃ শরিফ হোসেন। পেশায় তিনি সাংবাদিক মানুষের বিপদের সময়ে পাশে দাঁড়ানোকে দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছেন মোঃ শরিফ হোসেন। সাংবাদিক শরীফ গর্বের শহীদ একটি কথাই বলেছেন ২০০১ সালে আমার বাবা খুব গুরুতর অসুস্থ সেই সময় অনেক লোক গিয়েছে আমার বাবাকে রক্তদান করতে এরপর থেকে আমি অঙ্গীকার করি,,,। মহান আল্লাহতালা আমাকে যত বছর বাঁচিয়ে রাখবেন আমার শরীরের শক্তি ও জোর থাকবে,,। ইনশাআল্লাহ আমি মানুষকে রক্ত দিয়ে পাশে থাকবো এবার তিনি ৫৪তম বারের মতো স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন। একবার, দুইবার নয়, ৫৪ বার রক্ত দিয়ে মোঃ শরিফ হোসেন প্রমাণ করেছেন, মানুষের জন্য কাজ করতে সবসময় বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। একটি ছোট্ট মানবিক সিদ্ধান্তও একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে।

‎মোঃ শরিফ হোসেনের প্রতিটি রক্তদানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানবতার একটি গল্প। কোথাও হয়তো কোনো রোগী অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় ছিলেন। কোথাও কোনো অসহায় পরিবারের সদস্য রক্তের জন্য উদ্বিগ্ন ছিলেন। আবার কোথাও হয়তো একজন মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন ছিল। এমন পরিস্থিতিতে নিজের রক্ত দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন মোঃ শরিফ হোসেন। ৫৪তম রক্তদান মোঃ শরিফ হোসেনের জন্য শুধু একটি সংখ্যা নয়। এটি তার দীর্ঘদিনের মানবিক পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। প্রতিটি রক্তদানের মাধ্যমে তিনি মানুষের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়েছেন। মোঃ শরিফ হোসেনের এই ধারাবাহিকতা সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। রক্ত দিলে শরীরের রক্ত কমে যায় না, বরং একজন মানুষের জীবন বাঁচানোর সুযোগ তৈরি হয়। এই বিশ্বাস থেকেই মোঃ শরিফ হোসেন বারবার রক্তদানে এগিয়ে এসেছেন।

‎একই সঙ্গে মোঃ আফসার উদ্দিনও ৭ম বারের মতো স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন। তার এই উদ্যোগও প্রশংসার দাবি রাখে। মোঃ শরিফ হোসেনের ৫৪তম এবং মোঃ আফসার উদ্দিনের ৭ম রক্তদান মানবিকতার এই পথকে আরও শক্তিশালী করেছে। তবে শরিফ হোসেনের ৫৪তম রক্তদান বিশেষভাবে অনুপ্রেরণার। কারণ নিয়মিত রক্তদান শুধু একটি ভালো কাজ নয়, এটি মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধের প্রকাশ। সাংবাদিক শরিফ হোসেন সেই দায়িত্ববোধকে নিজের জীবনের অংশ করে নিয়েছেন। একজন মানুষের রক্ত অন্য একজন মানুষের জীবনের শেষ আশ্রয় হতে পারে। সেই জায়গা থেকেই সাংবাদিক শরিফ হোসেনের প্রতিটি রক্তদান একজন অচেনা মানুষের জন্য আশার বার্তা হয়ে এসেছে।

‎সাংবাদিক শরিফ হোসেনের মতো মানুষগুলো প্রচারের জন্য নয়, মানুষের প্রয়োজনে এগিয়ে আসেন। তাদের দেওয়া রক্ত হয়তো কোনো সংবাদে বড় করে প্রকাশ পায় না। কিন্তু সেই রক্তে কোনো একজন মানুষের জীবন ফিরে আসে, কোনো মায়ের মুখে হাসি ফুটে ওঠে, কোনো পরিবারের উৎকণ্ঠা কমে যায়। সাংবাদিক শরিফ হোসেনের ৫৪তম রক্তদান তাই শুধু রক্তদান নয়, এটি মানবতার প্রতি তার দীর্ঘ অঙ্গীকারের প্রতিচ্ছবি। তার এই মানবিক উদ্যোগ সমাজের অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে, এমনটাই প্রত্যাশা। কারণ একজন রক্তদাতা শুধু রক্ত দেন না, তিনি একজন মানুষের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা তৈরি করেন।