নিজস্ব প্রতিবেদক | কুমিল্লা

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার পূর্ব পোমকারা এলাকায় গত ২১ আগস্ট ২০২৬ শাহসূফী আব্দু শাহ আল মাইজভান্ডারী (রহ.)-এর পবিত্র বার্ষিক ওরশ শরীফ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্ত-আশেকানদের ব্যাপক উপস্থিতি এবং নানা ধর্মীয় কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ওরশ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন পীরে তরিকত আলহাজ্ব আল্লামা পীরজাদা মুফতি বাকীবিল্লাহ আল আযহারী আল মাইজভান্ডারী (মা.জি.আ.), সাজ্জাদানশীন, পীর সাহেব কেবলা, ঘিলাতলা দরবার শরীফ, বুড়িচং, কুমিল্লা।

তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আউলিয়া-কেরামের জীবনাদর্শ কেবল একটি আধ্যাত্মিক পথ নয়; এটি মানবকল্যাণ, নৈতিকতা, সহনশীলতা, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ। তিনি মুসলিম উম্মাহকে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনার পাশাপাশি তাসাউফের প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় আউলিয়া-কেরামের আদর্শ অনুসরণ সময়ের অপরিহার্য দাবি।

অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশ থেকে আগত অসংখ্য ভক্ত, আশেকান, আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লির উপস্থিতিতে মিলাদ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার, হামদ-নাত, আলোচনা এবং বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।

ওরশ শরীফকে কেন্দ্র করে পূর্ব পোমকারা এলাকায় এক আধ্যাত্মিক আবহের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ভক্তরা দিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং আউলিয়া-কেরামের আদর্শ প্রচার ও প্রসারে এমন আয়োজনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠান শেষে ওরশ শরীফ সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করায় আয়োজক কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সদস্যবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবকসহ সার্বিকভাবে সহযোগিতাকারী সকলের প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। উপস্থিত ভক্ত-আশেকানরাও আয়োজকদের সুন্দর ব্যবস্থাপনা ও আন্তরিক আতিথেয়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

ধর্মপ্রাণ মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হওয়া এ বার্ষিক ওরশ শরীফে অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের আধ্যাত্মিক আয়োজন সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ, সম্প্রীতি এবং মানবিক চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।