চান্দিনা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা: পানিবন্দি শতাধিক মানুষ, দুর্ভোগে শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী,
এ কে এম আজাদ নিজস্ব প্রতিবেদক | চান্দিনা, কুমিল্লা
কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হাজী মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম মুন্সীর বাড়ির দক্ষিণ পাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় ১০০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্ষার বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করায় এলাকাজুড়ে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে শিশু, নারী, বয়স্কসহ সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবারের ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় তারা চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাস্তায় হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, মুন্সী বাড়ির দুটি পুকুরে কোনো রিটেইনিং ওয়াল না থাকায় পুকুরের পাড় ভেঙে চারদিকে পানি ছড়িয়ে পড়ছে। এতে পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় জমে থাকা পানি দীর্ঘসময় ধরে আটকে থাকছে এবং দুর্ভোগ বাড়ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, বছরের পর বছর ধরে তারা এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, দ্রুত পুকুরের চারপাশে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এলাকাবাসী এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা চান্দিনার সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন, উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, চান্দিনা পৌরসভার আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ হলেও ১নং ওয়ার্ডের মুন্সী বাড়ি এলাকায় সেই উন্নয়নের সুফল পৌঁছেনি। তাদের দাবি, বিগত সরকারের আমলে এই এলাকার রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যত উপেক্ষিত ছিল। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এলাকার অধিকাংশ মানুষ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে তারা মনে করেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, যাতে শতাধিক পরিবার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পায় এবং শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসে।