নিজস্ব প্রতিবেদক | কুমিল্লা

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার হরিমঙ্গল ও তেতাভূমি সুশীদল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সুমন মেম্বারের বিরুদ্ধে হুন্ডি, চোরাচালান ও মানব পাচারসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র ও অভিযোগকারীরা দাবি করছেন, সীমান্তকেন্দ্রিক একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে সুমন মেম্বার এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ পারাপার, হুন্ডি লেনদেন এবং চোরাচালানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই সময় থেকে সীমান্তপথ ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে ভারতে পারাপার, বিভিন্ন ধরনের পণ্য চোরাচালান এবং হুন্ডি কার্যক্রমে জড়িত একটি সিন্ডিকেটের সঙ্গে সুমন মেম্বারের নাম উঠে আসে।

অভিযোগে বলা হয়, সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য, কসমেটিকস, শাড়ি, মোবাইল ফোন, মোবাইল ডিসপ্লে, খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন সামগ্রী অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করছে। একই সঙ্গে মাদক পাচারের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে কোনো আদালতের রায় বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন এই প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।

এছাড়া কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি অভিযোগ করেন, একটি অবৈধ হুন্ডি নেটওয়ার্কের মাধ্যমেও বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন করা হচ্ছে। তাদের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে সুমন মেম্বার বলেন,

“আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি কুচক্রী মহল আমার সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। আমি কোনো ধরনের হুন্ডি, মানব পাচার কিংবা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত নই। এসব অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। প্রয়োজনে নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, আমি আইনগতভাবে সব ধরনের সহযোগিতা করব।”

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,

“আমি এই থানায় মাত্র কয়েক মাস হলো যোগদান করেছি। তাই আগের সব বিষয় এখনো পুরোপুরি জানা হয়নি। তবে সুমন মেম্বারের বিরুদ্ধে থানায় মামলা ছিল। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন,যেহেতু আপনি বিষয়টি আমার নজরে এনেছেন, তাই অভিযোগগুলো আবারও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে পুনরায় তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে নন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, সুমন মেম্বারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ উঠলেও অনেকেই ভয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। তাদের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই এই প্রতিবেদকের পক্ষে সম্ভব হয়নি।

কুমিল্লা প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, সুমন মেম্বারকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ প্রশাসনের নজরে এসেছে। সূত্রটির ভাষ্য, অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সুনাম রক্ষায়ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার।