
মোঃ শাহজাহান বাশার
আত্মকেন্দ্রিকতা পরিহার করে মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন দরবারে গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারীর সাজ্জাদানশীন হযরতুলহাজ্ব মাওলানা শাহসূফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী মাইজভাণ্ডারী।
তিনি বলেন, আধ্যাত্মিক সাধনার সার্থকতা কেবল ব্যক্তিগত ইবাদত-উপাসনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা, ন্যায়পরায়ণতা ও পরোপকারের মধ্য দিয়েই এর প্রকৃত প্রতিফলন ঘটে। নবী-ওলিদের জীবনাদর্শ অনুসরণ করে মানবকল্যাণে কাজ করাই হওয়া উচিত প্রত্যেক মানুষের অন্যতম লক্ষ্য।
সোমবার (১২ অক্টোবর) চট্টগ্রামের বছির ভাণ্ডার দরবার শরীফে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও ফাতেহায়ে ইয়াযদাহুম উপলক্ষে আয়োজিত আজিমুশশান মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন মানবতার জন্য অনুসরণীয় আদর্শ। তাঁর শিক্ষা মানুষকে হিংসা, বিদ্বেষ, সংকীর্ণতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে দূরে রেখে বৃহত্তর মানবকল্যাণে উদ্বুদ্ধ করে। ক্ষুধার্তকে আহার দেওয়া, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, মানুষের অধিকার রক্ষা এবং সমাজে শান্তি-সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে ধর্মীয় মূল্যবোধের বাস্তব প্রকাশ ঘটে।
তিনি আরও বলেন, ওলি-আউলিয়াদের জীবনেও মানবপ্রেম, সেবা ও ত্যাগের শিক্ষা বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁদের আদর্শ অনুসরণের অর্থ হলো মানুষের দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি করা, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং সমাজে ন্যায়বিচার, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার পরিবেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখা।
তিনি বলেন, সমাজে স্থায়ী শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ধর্মীয় মূল্যবোধকে ব্যক্তিগত জীবন ও সামাজিক আচরণে প্রতিফলিত করা জরুরি। মত ও পথের ভিন্নতা যেন মানবিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। পরোপকারকে ব্যক্তিগত অভ্যাস ও সামাজিক অঙ্গীকারে পরিণত করা গেলে বৈষম্য ও বিদ্বেষ কমিয়ে মানবিক মর্যাদা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার পথ সুগম হবে।
মাহফিলের উদ্বোধন করেন হাটহাজারীর ফরহাদাবাদ দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন ও জেলা দায়রা জজ সৈয়দ ফখরুল আবেদিন রায়হান ফরহাদাবাদী। এতে সভাপতিত্ব করেন বছির ভাণ্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন সৈয়দ শামছুল আলম আল সানজারী মাইজভাণ্ডারী।
প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর গোমদণ্ডী দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন শাহজাদা মাওলানা সৈয়দ আহমদুল হক মাইজভাণ্ডারী।
হাফেজ ক্বারী মাওলানা মোহাম্মদ কেরামত আলীর সঞ্চালনায় মাহফিলে বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন হালিশহর ফুল চৌধুরীপাড়া আকবর আলী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা বেলাল হোসাইন তাহেরী, মইনীয়া ইসলামী সাংস্কৃতিক ফোরামের সভাপতি শায়ের মাওলানা মোহাম্মদ মনছুর আলী মাইজভাণ্ডারী, মইনীয়া যুব ফোরাম কেন্দ্রীয় পরিষদের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হাফেজ ক্বারী মাওলানা মুহাম্মদ কেরামত আলী এবং হাফেজ মাওলানা খাজা বাহাউদ্দীন মাইজভাণ্ডারী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এস এম সাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম জেলা সেক্রেটারি জসিন উদ্দীন ভূঁইয়া, আলহাজ্ব কাজী শহিদুল্লাহ ও ওয়াহিদ কবির চৌধুরীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
মাহফিলে ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ভক্ত-আশেকান ও স্থানীয় মুসল্লিরা অংশ নেন। এ সময় ধর্মীয় স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে মাহফিল প্রাঙ্গণ। ‘নারায়ে তাকবীর—আল্লাহু আকবর’, ‘নারায়ে রিসালাত—ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)’, ‘নারায়ে হায়দারী—ইয়া মাওলা আলী’ এবং ‘নারায়ে গাউছিয়া—ইয়া গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়া ও মইনীয়া যুব ফোরামের ব্যবস্থাপনায় এবং আল মইন শামস্ মনজিল, বছির ভাণ্ডার দরবার শরীফের উদ্যোগে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
মাহফিলের শেষপর্বে বিশ্বশান্তি, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং সবার সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন প্রধান অতিথি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী।
প্রধান উপদেষ্টা : হুমায়ুন কবির জীবন
উপদেষ্টা: আবুল হাসানাত
সম্পাদকীয় উপদেষ্টা: মোঃ শাহরিয়া সিকদার
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ শরিফ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ শাহজাহান বাশার
উপসম্পাদক : সালাম মিয়া
প্রধান কার্যালয় : ২ নং, উত্তর দুর্গাপুর ইউনিয়ন কৃষ্ণনগর। কুমিল্লা আদর্শ সদর
যোগাযোগ : +880 1828-413420
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়ঃ মেহেনাজ আইটি