মোঃ শাহজাহান বাশার
বাংলাদেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি দৃশ্যমান অংশ আছে— সরকারি খাত। আরেকটি অংশ আছে, যা প্রায় অদৃশ্য— বেসরকারি খাত। এই অদৃশ্য অংশটিই আজ সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানে কোনো অনিয়ম হলেই সংবাদ শিরোনাম হয়। কিন্তু বেসরকারি খাতে একই ধরনের ঘটনা ঘটলেও তা অনেক সময় “অভ্যন্তরীণ বিষয়” বলে চাপা পড়ে যায়। এই ব্যবধান শুধু প্রশাসনিক নয়— এটি একটি কাঠামোগত বৈষম্য।
ঢাকার আশপাশের একটি শিল্প এলাকায় কর্মরত একাধিক শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের অনেকেই প্রতিদিন ১০-১২ ঘণ্টা কাজ করলেও ওভারটাইমের পূর্ণ মজুরি পান না। নিয়োগপত্রে এক কথা, বাস্তবে আরেক।
কেউ প্রতিবাদ করলে কী হয়?চাকরি রাখতে হলে চুপ থাকতে হয়”— এমনটাই জানিয়েছেন এক কর্মী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)।
এই ধরনের অভিযোগ কি নতুন? না।কিন্তু এগুলো কি নিয়মিত শিরোনাম হয়? না।
একটি মাঝারি মানের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাবেক হিসাবরক্ষক জানান, প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আয়-ব্যয়ের সঙ্গে অফিসিয়াল কাগজপত্রের মিল ছিল না। ভ্যাট ও ট্যাক্স সংক্রান্ত তথ্য “সমন্বয়” করে জমা দেওয়ার চাপ ছিল নিয়মিত।
প্রশ্ন হচ্ছে—এই ধরনের আর্থিক অসঙ্গতি কত প্রতিষ্ঠানে ঘটছে?আর তার কতটুকু রাষ্ট্রের নজরে আসছে?
একাধিক কর্পোরেট কর্মীর অভিযোগ— যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় পদোন্নতি বা নিয়োগ নির্ভর করে,যোগাযোগ” ও “ঘনিষ্ঠতা”-র ওপর।এটি প্রমাণ করা কঠিন, কারণ সবকিছু হয় “অফ দ্য রেকর্ড”।কিন্তু এর প্রভাব পড়ে প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা ও কর্মপরিবেশে।
একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক জানান, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়ম নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তাকে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। পরে “আইনি জটিলতার” ইঙ্গিত দিয়ে তাকে নিরুৎসাহিত করা হয়।
প্রশ্ন হচ্ছে—যদি তথ্যই পাওয়া না যায়, তাহলে সত্য প্রকাশ পাবে কীভাবে?এই চারটি কেস আলাদা নয়— বরং একটি বড় বাস্তবতার ছোট ছোট প্রতিচ্ছবি।
বেসরকারি খাত আজ দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। কিন্তু সেই খাতের ভেতরে যদি স্বচ্ছতা না থাকে, তাহলে সেই শক্তিই একসময় দুর্বলতায় পরিণত হতে পারে।
সমস্যা কোথায়? -বাধ্যতামূলক ও কার্যকর নজরদারির অভাব ,তথ্যপ্রকাশে অনীহা,শ্রম আইনের আংশিক বা অসম প্রয়োগ,এবং সবচেয়ে বড়— জবাবদিহিতার ঘাটতি
প্রথমত, বেসরকারি খাতে নিয়মিত ও স্বচ্ছ অডিট নিশ্চিত করতে হবে— শুধু কাগজে নয়, বাস্তবে।
দ্বিতীয়ত, সাংবাদিকদের জন্য তথ্যপ্রাপ্তির একটি নিরাপদ কাঠামো তৈরি করতে হবে।
তৃতীয়ত, শ্রমিকদের অভিযোগ জানানোর একটি কার্যকর ও সুরক্ষিত প্ল্যাটফর্ম থাকা জরুরি।
রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় নীতি হওয়া উচিত—আইনের প্রয়োগে কোনো দ্বৈততা নয়।
ইতিহাস আমাদের দেখিয়েছে, মদিনার সনদ-এর মতো ন্যায়ভিত্তিক কাঠামো তখনই সফল হয়, যখন ক্ষমতার অবস্থান যাই হোক— নিয়ম সবার জন্য সমান থাকে।
আমার দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা থেকে আমি দেখেছি—যেখানে আলো যায় না, সেখানে অনিয়ম বেড়ে ওঠে।আজ প্রয়োজন সেই আলোকে বেসরকারি খাতের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে দেওয়া।
কারণ প্রশ্নটা শুধু অর্থনীতির নয়—প্রশ্নটা ন্যায়বিচারের।
প্রধান উপদেষ্টা : হুমায়ুন কবির জীবন
উপদেষ্টা: আবুল হাসানাত
সম্পাদকীয় উপদেষ্টা: মোঃ শাহরিয়া সিকদার
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ শরিফ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ শাহজাহান বাশার
উপসম্পাদক : সালাম মিয়া
প্রধান কার্যালয় : ২ নং, উত্তর দুর্গাপুর ইউনিয়ন কৃষ্ণনগর। কুমিল্লা আদর্শ সদর
যোগাযোগ : +880 1828-413420
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়ঃ মেহেনাজ আইটি